মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন
বানারীপাড়া প্রতিনিধি >> বানারীপাড়ায় মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন নারীরা। সারাদেশে উপজেলা পর্যায়ে ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া। মহিলাদের জন্য আয়বর্ধক কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ প্রকল্প (আইজিএ)-এর আওতায়
মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে ৪৩১টি উপজেলায় প্রশিক্ষণ চলছে। প্রত্যেক উপজেলায় ১০টি ট্রেড অনুযায়ী এক একটি উপজেলায় দুইটি ট্রেডের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
যেমন: টেইলারিং, ব্লক বাটিক, ফ্যাশন ডিজাইন, ফুড প্রসেসিং, মোটর ড্রাইভিং, মাশরুম চাষ, বিউটিফিকেশন, হস্তশিল্প, ক্রিস্টাল শোপিস, মোবাইল সার্ভিসিং ইত্যাদি। এরই ধারাবাহিকতায় বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় দুটি ট্রেড ফ্যাশন ডিজাইনিং ও ফুড প্রসেসিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রত্যেক ট্রেডে বিনামূল্যে ২৫ জন করে প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণার্থীদের ৩৬০ ঘণ্টা তিন মাসে ৬০ দিনব্যাপী প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা করে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীরা হাজিরা প্রতি বর্তমানে ২০০ টাকা করে তিন মাসব্যাপী ক্লাশ করার পর ১২ হাজার টাকাসহ সনদপত্র পেয়ে থাকেন ।
এ টাকা ও সনদপত্র পেয়ে অনেক নারীরাই অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছেন । স্বাবলম্বী নারী ও উদ্যোক্তা বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নের নীলিমা সরকার জানান, ৫ম ব্যাচে তিনি টেইলারিং কাজ শিখে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হয়েছেন। বর্তমানে তিনি প্রত্যেক মাসে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা আয় করেন এবং বাসায় অন্য মহিলাদের কাজ শিখিয়ে উপার্জন করেন । ব্লক বাটিক ফ্যাশন ডিজাইনিং ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থী পৌর শহরের ৮নং ওয়ার্ডের তাহমিনা তানজিলা জানান, আমি ৭ম ব্যাচে কাজ করেছি। মহিলাবিষয়ক অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আমি টাকা ও সনদপত্র পেয়েছি ।
বর্তমানে আমি অনলাইন ব্যবসা করি ও উদ্যোক্তা হয়েছি। আমি এ প্রশিক্ষণ নিয়ে অর্থনৈতিকভাবে বেশ এগিয়েছি আমার মাসিক আয় ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। বর্তমানে ফুড প্রসেসিং ট্রেডের ১২তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী সুখী খানম বলেন, আমি সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের অজপাড়া গাঁ সৈয়দকাঠি থেকে এসে সন্ধ্যানদী পাড়ি দিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আমি অতি যত্ন সহকারে কাজ শিখছি ও আমাদের ম্যাডামরা খুব সাফল্যের সাথে কাজ শিখাচ্ছেন। আমি ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এ রকম (আইজিএ) প্রশিক্ষণ প্রকল্প কার্যক্রম পরিচালনার জন্য । আমাদের মত অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীরা এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে বেশ উপকৃত হচ্ছে । ফ্যাশন ডিজাইনিং ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী মাছরং গ্রামের ৪নং ওয়ার্ডের রাধা সাহা বলেন, আমি মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের (আইজিএ) প্রশিক্ষণ থেকে কাজ শিখে অর্থনৈতিকভাবে সামনে আগাতে চাই ও নিজ উদ্যোগে ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা হতে চাই।
এ বিষয়ে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা দীপিকা রাণী সেন জানান, বিগত ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বানারীপাড়া উপজেলায় ৫৫০জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ।বর্তমানে আমাদের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে (আইজিএ) প্রশিক্ষণ প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক সুবিধা বঞ্চিত অসহায় নারীদের প্রশিক্ষণ, ভাতা ও সনদপত্র পেয়ে অর্থনৈতিকভাবে বেশ উপকৃত হয়েছেন। তারা সফলভাবে কাজ শিখতে পেরে বেশ খুশি। তাছাড়া আমার উপজেলায় অতি যত্ন সহকারে দুটি ট্রেডে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় দক্ষ প্রশিক্ষকের মাধ্যমে । ফ্যাশন ডিজাইনিং ট্রেডের প্রশিক্ষক উম্মে হাবিবা ঈশিতা জানান, আমাদের এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনেক মহিলা ও মেয়েরা সফলতার সাথে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। আমি শুরু থেকেই বানারীপাড়া উপজেলায় প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছি আমার আশা ও বিশ্বাস এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ও নারীদের ক্ষমতায়ন বাড়ছে। এই প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতায় প্রত্যেক উপজেলায় সুবিধা বঞ্চিত অসহায় নারীরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন ।
ফুড প্রসেসিং প্রশিক্ষক নওরিন আক্তার জানান, উপজেলা পর্যায়ে (আইজিএ) প্রশিক্ষণ প্রকল্পে নারীরা অত্যন্ত যত্ন সহকারে কাজ শিখেছেন ও শিখছেন । তারা এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনলাইন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছেন । অনেকে দোকান দিয়েছেন ও বাসায় বসে অর্ডারি কাজ করছেন ।
এছাড়াও প্রত্যেক উপজেলার (আইজিএ)’র অন্যান্য ট্রেডের কাজের মাধ্যমেও নারীরা বেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। প্রত্যেক নারীরা আয়বর্ধক কর্মসংস্থান তৈরি করছেন।